তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃষিবান্ধব সরকারের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে আগামী পয়লা বৈশাখ থেকে প্রি-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
প্রথম ধাপে দেশের ১১টি উপজেলার ২১ হাজার ১৪ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক এই কার্ডের আওতায় সরকারি সুবিধা পাবেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলা থেকে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ের এই ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।’
তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র—এই তিন শ্রেণির কৃষকেরা কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য জনপ্রতি বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি প্রণোদনা পাবেন।
তিনি আরও জানান, এই কার্ডটি কেবল কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে কৃষি ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও একটি অপরিহার্য দলিল হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো— পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রকৃত কৃষকের হাতে এই ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া।
এছাড়া ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তারা নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের অন্যান্য উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৪টি জেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও উৎপাদনশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কৃষক কার্ডের প্রবর্তন সেই অগ্রাধিকারেরই একটি সফল বাস্তবায়ন।

