বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভোজ্যতেল নিয়ে নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য, যার দাম বাড়লে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট সময় পরপর দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি ও আমদানি পর্যালোচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোজ্যতেল সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চার সিটিতে হামের টিকাদান শুরু রবিবার
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা অস্থিরতা তৈরি না হয়, সে জন্য সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধসহ নানা কারণে দেশের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো—কোনো পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শোনা হয়েছে এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২৫ এপ্রিল
ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল সময়। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে যারা কাজ করছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা জরুরি, কারণ এ ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাজার থেকে সরে গেলে তা দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রী আরও জানান, ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ‘কমফোর্টেবল’ পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

