সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে তার লাশ শ্যামনগরের গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়।
লাশের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে মরিয়মের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরের পাশে মরিয়মকে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে ৩০১ পদে
এর আগে সন্ধ্যার পর থেকেই মরিয়মের দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তার জন্য নতুন কবর প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে তখন নেমে আসে শোকের আবহ। প্রতিবেশীরাও বাড়ির সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী মুন্নী খাতুন দাফনের প্রস্তুতি তদারক করেন। তিনি জানান, লাশবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু হয়ে খুলনার কয়রা পর্যন্ত আসে। পরে কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার বাড়িতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর মরিয়মের বয়স যখন দুই-তিন বছর, তখন থেকেই সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকত।
একই এলাকার সাবেক গ্রাম পুলিশ ৮২ বছর বয়সী গোলাম রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই মরিয়ম ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে তার লেখাপড়া ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা শুনেছেন তিনি। তবে এত অল্প বয়সে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার ব্যর্থ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নাতনির মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে ছিলেন মরিয়মের দাদা ইউনুস সরদার।
উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

