পৃথিবীর সব মা-ই রত্নগর্ভা। একজন মা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং পরম মমতায় তাকে লালিত ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলেন। সন্তান গড়ার এ যাত্রায় নানা প্রতিকূলতায় সব মা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না। তবে শত বাধা অতিক্রম করে সাধারণের বাইরে গিয়ে কিছু মা অসাধারণ হয়ে ওঠেন। সন্তানকে সুশিক্ষিত, সুপ্রতিষ্ঠিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাকে পৌঁছিয়ে দেন সফলতার দ্বারপ্রান্তে। সেসব মাকেই রত্নগর্ভার স্বীকৃতি দিতে আজাদ প্রোডাক্টস ‘রত্নগর্ভা মা ২০২৫’ সম্মাননার আয়োজন করে।
আজ সোমবার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে ‘রত্নগর্ভা মা ২০২৫’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আজাদ প্রোডাক্টস। অনুষ্ঠানে দুটি ক্যাটাগরিতে ৩৫ রত্নগর্ভাকে দেওয়া হয় সম্মাননা। এর মধ্যে ১০ জনকে বিশেষ ক্যাটাগরিতে এবং ২৫ জনকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয় সম্মাননা।
রত্নগর্ভা মা ২০২৫ গ্রহণ করছেন ঠাকুগাঁওয়ের মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগম
বিশেষ বিভাগে সম্মাননা পাওয়া ১০ রত্নগর্ভা হলেন ড. রীতা সেন, হোসনে আরা বেগম, রাহেনা আক্তার খানম, মিসেস জহুরা খাতুন, মিসেস অনুভা ঘোষ, মিসেস রেজিয়া বেগম, মিসেস খোরশেদা বেগম, মিসেস রীনা বেগম, মিসেস শেফালী বেগম ও মিসেস মাহবুবা ফারুক।
সাধারণ বিভাগে সম্মাননা পাওয়া ২৫ রত্নগর্ভা হলেন প্রফেসর তওহীদা ফারুকী বেগম, শাহানা পারভীন লিটা, হাসনা হেনা বেগম, মিসেস রাজিয়া আক্তার, মিসেস ফাতেমা বেগম, মিসেস ফেরদৌসী ইসলাম, তাহমিনা বেগম চৌধুরী, মিসেস আয়েশা আক্তার, মিসেস সাহিনা বেগম, খায়রুন নেছা আক্তার, মিসেস কানিজ ফাতেমা, মিসেস জান্নাতুন নাহার, শ্রীমতি কামনা রানী ঘোষ, মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগম, মিসেস হাসনারা বেগম, মিসেস রাশিদা বেগম, মোসা. রহিমা বেগম, মিসেস রেহানা বেগম, মিসেস হামিদা বেগম, মিসেস রোকেয়া বেগম, মিসেস আক্তার খাতুন, মিসেস রোকেয়া বেগম, অরুনা রানী সরকার, ডা. নাসরিন সুলতানা ও রীনা রানী সাহা।
ছেলে ডাক্তার মো. রমজান আলী ও মা মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগম
অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে সমাজে মানুষের যে নৈতিক অবক্ষয়, তার মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার প্রধান কৃতিত্ব মায়েদের। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আদর্শিক শিক্ষক ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে ভুগছে। তিনি মায়েদের আহ্বান জানান তাঁরা যেন নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখেন এবং মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দেন আজাদ প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রত্যেক সন্তানকে মাকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনটি আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।’ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ প্রত্যেক সন্তানকে যেকোনো পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন মা যখন তাঁর সন্তানকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন, সেটিই সন্তানের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ও মা মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগম
উত্তরের প্রত্যন্ত জেলা ঠাকুরগাঁও থেকে দুই ছেলে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মো. রমজান আলী ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রত্নগর্ভা সম্মাননা নিতে আসা মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগমকে সম্মাননা পেয়ে কেমন লাগছে প্রশ্ন করলে তিনি দ্য জেনারেশন টুডেকে বলেন, আমার সন্তানরা আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে আছে—জীবদ্দশায় এটি দেখতে পারছি এর চেয়ে আনন্দের আর কি-ই বা হতে পারে। মা হিসেবে সন্তানদের ভালো থাকা দেখতে পারাই আমার কাছে পরম প্রাপ্তির।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মিমি আলাউদ্দীন ও রবি চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, আজাদ প্রোডাক্টস ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ব মা দিবসে বিশেষ অবদান রাখা মায়েদের ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা দিয়ে আসছে। সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সফল হিসেবে গড়ে তুলতে মায়েদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান চালু করেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। এবারের আয়োজনটি ছিল ২৩তম আসর। আজ ৩৫ মাকে ‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।

