পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন পিনাকী ভট্টাচার্য

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

পিনাকী ভট্টাচার্য
পিনাকী ভট্টাচার্য|ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চীনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রের ভূমিকা এবং পুঁজিবাদের বিকাশ নিয়ে তর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘সার্বভৌম সঞ্চয়: বুর্জোয়া শ্রেণি ছাড়াই চীন কীভাবে পুঁজিবাদ টিকিয়ে রাখে’। ইংরেজিতে গবেষণাপত্রটির নাম ‘সার্বভৌম সঞ্চয়: হাউ চায়না সাসটেইনস ক্যাপিটালিজম উইদাউট আ বুর্জোয়া’।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় চীনে প্রচলিত বুর্জোয়া শ্রেণির অনুপস্থিতি বা সীমিত ভূমিকার প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাদ কীভাবে টিকে রয়েছে, তা তাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে মাস্টার্স, আবেদন শেষ ২৪ নভেম্বর

জানা পিনাকী ভট্টাচার্য ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট’-এর অধীনে গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। তার গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক টবিয়াস ডি কোনিং।

গবেষণায় চীনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রভাব, পুঁজি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া এবং পুঁজিবাদী উৎপাদনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুঁজিপতি ও বুর্জোয়া শ্রেণিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে চীনের অর্থনৈতিক কাঠামোয় রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই ধারণাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, সেটিই গবেষণার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।

চীনের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতির প্রভাব এবং বাজারব্যবস্থার সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণাটিতে এসব দিকের আলোকে চীনের পুঁজিবাদী বিকাশের বৈশিষ্ট্য ও গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওএড-এমএডে ভর্তি, আবেদন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত

পিনাকী ভট্টাচার্যের জন্ম বগুড়া জেলায়। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা শ্যামল ভট্টাচার্য বগুড়া জেলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। মা সুকৃতি ভট্টাচার্য ছিলেন গৃহিণী। বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ সন্তান পিনাকী ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনেও জয়ী হন এবং সংগঠনটির কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের পাশাপাশি চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠনে তার সম্পৃক্ততা ছিল কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও পরবর্তী সময়ে লেখালেখি, সামাজিক সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি।

২০১৮ সালে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশত্যাগ করে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন বলে তার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। প্রবাসজীবনেও উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন পিনাকী। ২০২১ সালে ফ্রান্সের সরবোন বিজনেস স্কুল থেকে নির্বাহী ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এক্সিকিউটিভ এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ১৪ বছর পেরিয়েও সাইফের সঙ্গে ‘অনন্তকাল’ চান কারিনা

পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক প্রসাধনসামগ্রী প্রতিষ্ঠান লরিয়ালের ডার্মাটোলজিক্যাল বিউটি বিভাগে চিকিৎসাবিষয়ক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক চিকিৎসাবিষয়ক সম্পর্ক বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি—এই তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্রে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত সম্পৃক্ততা তার কর্মজীবনের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরে। সর্বশেষ পিএইচডি গবেষণায় চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো ও পুঁজিবাদের বিকাশ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই পরিসরে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।

লেখালেখির জগতেও পিনাকী ভট্টাচার্য পরিচিত নাম। ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ’, ‘ফুলকুমারী’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’সহ একাধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি এবং অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

পারিবারিক জীবনে পিনাকী ভট্টাচার্যের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা বেগম পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁদের একমাত্র ছেলে ঋষভ আঞ্জুমান শুভ।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!