বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানান।
সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ দেবে ইউজিসি, আবেদন ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই
তিনি বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার এই পদত্যাগ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতি। ভবিষ্যতে সংগঠনটি শহীদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন তিনি।
এ বিষয়ে সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া বলেন, ‘আমি আমার পোস্টে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। সমসাময়িক ক্যাম্পাস রাজনীতির কর্মকাণ্ড আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে আমি বিএনপি তথা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অটল রয়েছি। আমি শুধু আমার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’
আরও পড়ুন: ঘরে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেটসহ ফ্রি অনলাইন কোর্সের সুযোগ, আবেদন যেভাবে
তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় রাজনীতিতে এসেছি। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নারী কর্মীদের মধ্যে আমিও প্রথম দিকের একজন। তবে বর্তমানে আমার কাছে মনে হয়েছে, পদটি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। আমি পদে না থেকেও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি কেবল আমার পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।’

