সুইডেনে মাস্টার্স করার পাশাপাশি সুইডিশ ইনস্টিটিউটের (এসআই) স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের। এ বৃত্তির জন্য আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নিজ দেশে টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা থাকতে হয়। স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। তবে সব মাস্টার্স প্রোগ্রাম এ বৃত্তির আওতাভুক্ত নয়। আবেদন করার আগে যোগ্য প্রোগ্রাম ও হালনাগাদ শর্ত যাচাই করা জরুরি।
সুইডেন ইউরোপের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুযোগও রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে পড়াশোনা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
সুযোগ-সুবিধা
*স্কলারশিপের আওতাভুক্ত প্রোগ্রামে টিউশন ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে;
*নির্বাচিত বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে;
আরও পড়ুন: কমনওয়েলথ স্কলারশিপ: বিনা খরচে যুক্তরাজ্যে পিএইচডির সুযোগ, বাংলাদেশিদের আবেদন যেভাবে
*কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব টিউশন ফি মওকুফ বা অন্যান্য বৃত্তির সুযোগ রয়েছে;
*সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে;
*শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে টেকসই উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
*আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে;
*সুইডিশ ইনস্টিটিউটের স্কলারশিপের জন্য নির্ধারিত যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হবে;
*স্কলারশিপের শর্ত অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রদত্ত তথ্যে অন্তত ৩ হাজার ঘণ্টা কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে;
*কর্মক্ষেত্র বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রদত্ত তথ্যে প্রায় ৬০০ ঘণ্টার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে;
*কাজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দায়িত্বের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে;
*আবেদনকারীর সিভি, রেফারেন্স ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা স্কলারশিপের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে;
*নিজ দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা থাকতে হবে;
*আবেদনকারীকে এমন মাস্টার্স প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে, যা সুইডিশ ইনস্টিটিউটের স্কলারশিপের আওতাভুক্ত।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
*স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ;
*ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্য নথি;
*নির্ধারিত ফরম্যাটে সিভি;
*কাজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দায়িত্বের প্রমাণপত্র;
আরও পড়ুন: ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে পড়ুন ইউরোপে, দেখুন বিস্তারিত
*প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক বা পেশাগত রেফারেন্স লেটার;
*মোটিভেশন লেটার বা আবেদনকারীর উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিবরণ।
আবেদনপ্রক্রিয়া
সুইডেনে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রথমে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টাল থেকে আবেদন করতে হবে। একজন আবেদনকারী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চারটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে পারেন।
আবেদনের আগে প্রতিটি প্রোগ্রামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার শর্ত এবং স্কলারশিপের আওতাভুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে। আবেদনকারীদের পছন্দের প্রোগ্রামগুলো যথাযথভাবে সাজাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন করার পর সুইডিশ ইনস্টিটিউটের স্কলারশিপের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ও নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।
স্নাতকের ট্রান্সক্রিপ্টসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হবে। কাজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দায়িত্বের ক্ষেত্রে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রস্তুত রাখা জরুরি।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা
সুইডিশ ইনস্টিটিউটের স্কলারশিপে আইইএলটিএস বা টোয়েফল সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক এমন নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের নিজস্ব ইংরেজি ভাষার শর্ত থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্দেশনা যাচাই করতে হবে। বিকল্প হিসেবে পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি ছিল এমন সনদ গ্রহণ করা হবে কি না, তা-ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা
প্রদত্ত তথ্যে সুইডিশ ইনস্টিটিউটের স্কলারশিপের পরবর্তী আবেদনের নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পোর্টাল এবং সুইডিশ ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে হালনাগাদ সময়সূচি ও যোগ্যতা দেখে নিতে হবে।

