দলবদলের বাজারে বড় চমক দেখাতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনকে দলে ভেড়ানোর কাজ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে কাতালান ক্লাবটি। একই সঙ্গে আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ থেকে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে টানার পরিকল্পনাও করছে তারা।
গত কয়েক ঘণ্টা ধরেই গর্ডনের দলবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছিল। পরে ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানো তার পরিচিত ‘Here we go’ বার্তার মাধ্যমে এই ট্রান্সফারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, নিউক্যাসলের সঙ্গে ৭০ মিলিয়ন ইউরো এবং অতিরিক্ত বোনাসসহ চুক্তিতে পৌঁছেছে বার্সেলোনা। সব মিলিয়ে এই ট্রান্সফারের মোট মূল্য ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি হতে পারে। ইতোমধ্যে নিউক্যাসলের বোর্ড এবং সৌদি মালিকপক্ষও প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বাকি প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ।
এর আগে গর্ডনের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্ত নিয়েও সমঝোতায় পৌঁছে যায় বার্সেলোনা। এখন চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে এই সপ্তাহেই মেডিকেল পরীক্ষার আয়োজন করতে চায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। মেডিকেল ও চুক্তি স্বাক্ষরের কাজ শেষ করেই ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে উত্তর আমেরিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
খুব দ্রুতই ইংল্যান্ড থেকে বার্সেলোনায় উড়ে যেতে পারেন গর্ডন। ক্লাব ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কোনো জটিলতা তৈরি না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে বার্সেলোনায় যোগ দিতে যাচ্ছেন এই ইংলিশ তারকা। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিউক্যাসলের হয়ে ১৭ গোল করেছেন তিনি। মূলত বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার হলেও প্রয়োজন হলে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলতে পারেন।
গতি, শারীরিক সক্ষমতা, আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং একাধিক পজিশনে খেলার দক্ষতার কারণে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের পরিকল্পনায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন গর্ডন। দ্রুতগতির আক্রমণ ও হাই প্রেসিং নির্ভর ফুটবলে তাকে বড় সংযোজন হিসেবেই দেখছে ক্লাবটি।
আরও পড়ুন: ইবোলা শঙ্কা কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলছে ডিআর কঙ্গো
গর্ডনের দলবদলের পাশাপাশি বার্সেলোনার নজর এখন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের দিকেও। ম্যানচেস্টার সিটিতে পারফরম্যান্স ভালো হলেও আর্লিং হল্যান্ডের আড়ালে অনেকটাই চাপা পড়ে ছিলেন তিনি। তবে গত বছর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
চলতি মৌসুমে ২১ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন আলভারেজ, সঙ্গে আছে ৪টি অ্যাসিস্ট। গত মৌসুমে করেছিলেন ২৯ গোল। যদিও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভালো হলেও অ্যাতলেটিকোর হয়ে এখনো কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তার।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আলভারেজকে দলে ভেড়ানোকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে বার্সেলোনা। রবার্ট লেভানডোভস্কি আগামী বছর ক্লাব ছাড়তে পারেন, আর তাতেই আর্থিকভাবে জায়গা তৈরি হবে নতুন স্ট্রাইকার দলে টানার।
ছোটবেলা থেকেই বার্সেলোনার সমর্থক আলভারেজ। আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে অনুসরণ করেই তার বেড়ে ওঠা। ফলে অনেকেই মনে করছেন, বার্সেলোনায় যাওয়ার সম্ভাবনা তার জন্য বেশ বাস্তব।
এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল আলভারেজকে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি তিনি। মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি খুব শান্ত। আমি সব সময় বলি যে একজনকে শান্ত থাকতে হবে এবং মাঠে কাজটা ঠিকঠাক করতে হবে। সেটা আমাকে ভাবায় না, ওগুলো বলা হবেই। গুঞ্জন সব সময় থাকবে।’
২০২২ সালে ইউরোপিয়ান ফুটবলে পা রাখেন আলভারেজ। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৩৬ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করার পর রেকর্ড ট্রান্সফারে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি। বোনাসসহ প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ইউরো খরচ করে তাকে দলে নেয় স্প্যানিশ ক্লাবটি। এটি এখন পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির কোনো খেলোয়াড় বিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য। আলভারেজের সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি করেছে অ্যাতলেটিকো।

