দেশের ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারী শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৈঠকে ছাত্রীদের বৃত্তির পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের অবসরকালীন পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে মাস্টার্স, আবেদন শেষ ২৪ নভেম্বর
সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো। বৃত্তির আওতা বাড়ানো হলে বিপুলসংখ্যক ছাত্রী শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
তবে বৃত্তির পরিমাণ, কোন শ্রেণির ছাত্রীরা এ সুবিধা পাবে, আবেদনের যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং অর্থ বিতরণের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে প্রকৃত শিখনফল ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মাস্টার্স করার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নিয়মিত মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক মূল্যায়নের পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের শিখনফল যাচাইয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে। এটি আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণকে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

