দেশের অর্থনৈতিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্যকে আরও নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে দুটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে (বিবিএস)। একই সঙ্গে অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (২১ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপি, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হার সূচক প্রণয়ন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে এ হার প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত চিত্র জানা এবং তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোন উদ্যোগ ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং কোন ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তন দরকার, তা নির্ধারণে নির্ভুল তথ্যের বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের জমি বরাদ্দের প্রস্তাব নাকচ করল বাংলাদেশ
তিনি বলেন, প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিবিএস অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এখন থেকে প্রকাশিত তথ্য যাতে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে প্রকাশিত তথ্য ও উপাত্তও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সেগুলো ফরেনসিক তদন্তের মতো বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
জোনায়েদ সাকি জানান, সভায় পাওয়া মতামত সংকলনের পর সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতি উন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে আবারও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরেই উন্নত পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের আওতায় তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং জাতীয় তথ্যভান্ডার হিসেবে বিবিএসের সক্ষমতা আরও জোরদারের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিক্ষকদের সতর্ক করলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
মতবিনিময় সভায় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক এবং বিবিএসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা অংশ নেন।
সভায় সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হার সূচক প্রণয়নের পদ্ধতি নিয়ে উপস্থাপনা করেন বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের উপপরিচালক স্বজন হায়দার। অন্যদিকে জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতি, তথ্যের উৎস, কভারেজ, ত্রৈমাসিক জিডিপি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন একই উইংয়ের উপপরিচালক তোফায়েল আহমদ।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির আধুনিকায়ন, মূল্যস্ফীতি পরিমাপের পদ্ধতি, ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রণয়ন এবং জাতীয় হিসাব ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। অংশগ্রহণকারীরা জিডিপি, সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হার সূচক প্রণয়নকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন সুপারিশ দেন।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা
তারা এ কার্যক্রমকে আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য করতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জিডিপি প্রণয়নে তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মানসম্মত তথ্য প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩ হালনাগাদ, বিবিএসকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়ন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও কর্মজীবন কাঠামো যৌক্তিক করা, পরিসংখ্যান খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জরিপ কার্যক্রম নিয়মিত করার আহ্বান জানান।

