আমেরিকার দেশগুলোতে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক বিশাল উৎসব। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে রাস্তায় রাস্তায় গান, পতাকা আর উল্লাসে মেতে ওঠে মানুষ। ফুটবল সেখানে শুধু খেলা নয়, বরং আনন্দ, আবেগ আর মিলনের প্রতীক। কিন্তু সেই একই বিশ্বকাপের উন্মাদনা বাংলাদেশে কখনো কখনো আনন্দের বদলে অস্থিরতা, সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত ১৫ দিনের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশ্বকাপ ঘিরে একাধিক সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে অন্তত ৩টি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মরক্কোর তাণ্ডবে কাঁপল ব্রাজিল, সমতায় বাঁচল সেলেসাওরা
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে হবিগঞ্জ সদর এলাকায়। গত ৩ জুন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। এতে অন্তত ২৫ জনের বেশি আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এর কয়েকদিন পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় লিওনেল মেসিকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্রসংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়, এতে অন্তত চারজন আহত হন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় পতাকা টানানো, ব্যানার স্থাপন এবং দলীয় সমর্থনকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, ফুটবল উন্মাদনার এই সময়েই একের পর এক ঘটেছে হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎ মিসরের বিশ্বকাপ জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা, নেপথ্যে কী
একই সময়ে ভোলায় ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। আর বিশ্বকাপ খেলা দেখে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পৃথক আরেক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক কলেজছাত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবল আবেগের খেলা হলেও সেই আবেগ যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়, তবে তা সহিংসতা ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই আনন্দকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা, সংযম এবং দায়িত্বশীল আচরণ। কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মানুষের আনন্দের জন্য আর সেই আনন্দ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা হয় নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং প্রাণহানিমুক্ত।

