বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এবং দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দুই বছর আগে দেশ ছাড়ার পর এবার স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান তিনি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান। তার ভাষায়, মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা নিজের মাতৃভূমিতেই হোক, যেখানে তার বাবা-মা সমাহিত এবং তাদের রক্ত ঝরেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাসনে যাওয়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করলেন। তিনি জানান, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তার দাবি, বাংলাদেশ সরকার ভারতকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে, তবে তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরবেন।
আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ
তার এই বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্ররা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে গত এপ্রিলে ভারত জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন এবং দলের অন্য নেতাদেরও একই আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, আত্মসমর্পণের সময় কিংবা কোন আদালতে হাজির হবেন—এসব বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনমূলক। তিনি সেটি প্রমাণ করতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ইরানের পাঁচ প্রদেশে মার্কিন হামলা, নিহত অন্তত ১৪
কারাভোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে সামরিক শাসনের সময় এবং ২০০৭ সালে দুর্নীতির মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন।
দেশ ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তার বাসভবনের দিকে জনতা অগ্রসর হলে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ভারত চলে যান।
আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা জানান, অনলাইনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। তার দাবি, নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের।
সূত্র: রয়টার্স

