জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটের মাঠ নিজেদের পক্ষে দেখছে জামায়াত
এছাড়া শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
বুধবারের একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে একক মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প পেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট সাতটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সর্বাত্মক উন্নয়ন প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রসিকের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামি গ্রেফতার
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী স্বাবলম্বিতা অর্জনে সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ও দ্বিতীয় সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বাড়াতেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ-সংক্রান্ত তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আনতে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাসে ওঠার সময় মোবাইল ছিনতাই, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় আটক ছিনতাইকারী
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহার উপযোগী করা এবং এর সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করা ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

