জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বাদশ বৈঠকে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। পানি সম্পদ, সড়ক অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং শিল্প খাতের নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠিতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। পরিল্পনা বিভাগের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আলোচ্যসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ‘বরিশাল সেচ প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
এছাড়া ‘বৃহত্তর যশোর জলাবদ্ধতা প্রশমন ও সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ও একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং সেচের আওতা বৃদ্ধি।
স্থানীয় পর্যায়ে ভূমি প্রশাসন সেবা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে বিবেচিত হবে।
নগর উন্নয়ন খাতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্পও একনেকের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে।
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে কালাবিবীর দিঘি থেকে ঈদমনি পর্যন্ত আনোয়ারা-বাঁশখালী-তৈতং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৭০) উন্নয়ন প্রকল্প আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটি প্রয়োজনীয় মান ও প্রস্থে উন্নীত করা হবে।
আরও পড়ুন: সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে এক নীতিমালার আওতায় আনছে সরকার
সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওসহ ৩৩ জেলার সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও পর্যালোচনা করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রকল্প হিসেবে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য শিশুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা।
একই খাতে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম সংশোধনীও বিবেচনায় আসছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
শিক্ষা খাতে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তথ্য ব্যবস্থা (মেমিস) সহায়তা প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী এবং দেশব্যাপী ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
শিল্প খাতে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ নামে একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
আরও পড়ুন: ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
এছাড়া বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও একনেকে বিবেচিত হবে, যার বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসব প্রকল্পের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়া আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক পার্কিং প্রকল্প, ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সরলীকরণ প্রকল্প, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস প্রশিক্ষণ সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।

