ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ও নতুন আমদানি নীতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক|ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, চলতি মেয়াদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরকে গতিশীল করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ

বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রণীত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম একীভূত করে একটি একক কাঠামোর অধীনে আনা হবে। প্রস্তাবিত নতুন এই কর্তৃপক্ষই হবে দেশের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা।

এর ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি ডিজিটাল ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় সব সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে। পাশাপাশি সরকারের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা ও শেয়ার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহজ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিতে পারবে।

আরও পড়ুন: সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সম্ভাবনা থেকে বাস্তবায়নের পথ সুগম করা প্রয়োজন: আশিক চৌধুরী

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই কৌশলপত্রের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ গঠন করা হবে। এ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’ এবং রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনে ঢাকা বোর্ডের জরুরি নোটিশ

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

নতুন নীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে আমদানি মূল্য পরিশোধ পদ্ধতিতে। প্রচলিত এলসি (লেটার অব ক্রেডিট)-এর পাশাপাশি এখন থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যবসায়ীরা মূল্যসীমা ছাড়াই ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ (সেলস কনট্রাক্ট) এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ‘ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) বা বিনামূল্যে আমদানির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

নতুন নীতিতে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসীরা যাতে দেশে এসে সহজে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সে জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি কীটনাশক আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দেশের প্রাণিসম্পদের প্রজনন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট প্যাথোজেনমুক্ত (এসপিএফ) এবং বিএসই-মুক্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের সিমেন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!