জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও মেধাবী তরুণদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা নির্বাচিত তরুণদের সরকারি অর্থায়নে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী বছর থেকে এ পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে মাস্টার্স, আবেদন শেষ ২৪ নভেম্বর
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণেরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগের আওতায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজসহ বিভিন্ন মেধাভিত্তিক কার্যক্রমে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওএড-এমএডে ভর্তি, আবেদন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত
তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতেই আসবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, রাজনীতি, নীতি প্রণয়ন ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। এ জন্য তরুণদের মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ, সততা, মেধা ও যোগ্যতার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তরুণেরা বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সামনে এনেছেন। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সফলতা অর্জন ও ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। বরং ন্যায়বিচার, সমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: দেশের সব মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সময়োপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নের প্রতিটি পর্যায়ে তরুণদের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আয়োজকদের আরও বেশি নীতি সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।

