রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তার পিংকিকে শরীরে গরম পানি ঢেলে হত্যার দায়ে স্বামী মো. সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটিতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর নয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক।
আরও পড়ুন: গুম-নির্যাতনের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘আয়না ঘর’ পরিদর্শন
ট্রাইব্যুনালের পিপি এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সানাউল্লাহকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে পিংকিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন সানাউল্লাহ।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ২ মে যৌতুক না পেয়ে সানাউল্লাহ পিংকির শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পিংকির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: ফেসবুক-টিকটক ব্যবহার না করার শর্তে মায়ের কাছে ফিরল ৭ মাসের শিশু
এ ঘটনায় পিংকির বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
তবে বাদী ওই সুপারিশের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত সব আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেন।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলো। অপর নয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

