প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড রাজনৈতিক বিবেচনা নয় প্রকৃত যোগ্যরাই পাচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর|ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা রাখা হচ্ছে না। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত ব্যক্তিদেরই এসব সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি খাত এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে; যা কৃষক, খামারি ও সংশ্লিষ্টদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট কাটাতে দেশে এল তেলবাহী জাহাজ

তিনি জানান, দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হতেন; আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা তালিকাভুক্ত হতেন। বর্তমানে পিএমটি (প্রক্সি মিনস টেস্ট) স্কোরের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রাখা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় হয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। সরকার এখন সুবিধা কমানোর পরিবর্তে এই অপচয় কমাতে জোর দিচ্ছে। এজন্য ডিজিটাল পদ্ধতি চালু এবং বিভিন্ন ডাটাবেজ সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি পরীক্ষামূলকভাবে আগামী পয়লা বৈশাখ থেকে চালু করা হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত সেবা দেওয়া হবে। পরে তা সম্প্রসারণ করে ১০টি সেবা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চিপস-সংবলিত এই ডিজিটাল কার্ড ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে; যা কৃষকদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধুদেশের জাহাজ

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড, ওয়ান ডিজিটাল পোর্টফোলিও’ ধারণার দিকে এগোচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য সমন্বয় করে একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে; যাতে নাগরিকরা সহজে বিভিন্ন সেবা পেতে পারেন।

অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন করে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। বরং অপচয়, জালিয়াতি ও অনিয়ম কমিয়ে অর্থের সংস্থান করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে স্বল্পসুদে ঋণ নেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

বিদ্যমান জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সরকার একটি বড় সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না; যাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে বা কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ও বাজারে প্রভাব পড়তে পারে- এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর একটি অংশ ভুল তথ্য বা গুজব থেকে তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ কমেনি। তবে কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মজুতদারি হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন অর্থাৎ এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যেখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। এজন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!