২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়। এর আগে ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। সেদিন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে প্রসিকিউশন। পরে পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: সব অবস্থা থেকেই বিএনপি বারবার গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই শুরু থেকে পলাতক।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর, শেষ ২৭ মে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি, তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ৪ আগস্ট প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, মামলায় বেশ কিছু কলরেকর্ড, ডকুমেন্টারি এভিডেন্স, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল হত্যা, হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগের সশস্ত্র নেতা-কর্মীদের হামলা ও হত্যার জন্য আসামিরা নির্দেশনা, পরামর্শ ও উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: জনগণের সব অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
প্রসিকিউটরের দাবি, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।

