বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহে চলমান অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদারে বাংলাদেশের জন্য দুটি প্রকল্পে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষায় নকলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: শিক্ষামন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, "এ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক। ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"
৩০০ মিলিয়ন ডলারের 'ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি' প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থায়ন দেওয়া হবে। এ অর্থায়নের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।
বর্তমানে দেশে মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
প্রকল্পটির আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন সহায়তা পাবে।
আরও পড়ুন: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মেট্রোরেলে কী সুবিধা পেতে যাচ্ছেন
বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, "বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা আমন ও বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। এ ছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতে কর্মরত। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্যনিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।"
অন্যদিকে, ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের 'কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স' প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ছাড়যোগ্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংকটকালীন সময়ে মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ প্রকল্পের আওতায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।
আরও পড়ুন: বৈষম্য দূর করে শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, "বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার টুলকিট বা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রকল্প বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল পাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আকস্মিক ধাক্কার প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।"

