দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হুন্ডি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের প্রধান দুটি মাধ্যম হলো ওভার ইনভয়েসিং ও হুন্ডি। ফলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হুন্ডি নির্মূল করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের বাইরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের বড় অংশ বিদেশেই থেকে যায়। এই অর্থ পাচারের প্রধান দুটি পথ হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ওভার ইনভয়েসিং, অর্থাৎ আমদানি পণ্যে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো এবং হুন্ডি।
আরও পড়ুন: এমপি নজরুলের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে যা বলছে ইসি
তিনি বলেন, দেশে যতদিন মূলধন হিসাবের সীমাবদ্ধতা ও দুর্নীতি থাকবে, ততদিন হুন্ডিও থাকবে। হুন্ডির পরিমাণ নির্ভর করবে মূলধন হিসাব কতটা উদার করা হচ্ছে এবং দুর্নীতি কতটা কমানো যাচ্ছে তার ওপর।
ডিজিটাল লেনদেনের ফি কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন সম্পূর্ণ ফিমুক্ত করা উচিত। পরে ধাপে ধাপে ১০ পয়সা করে ফি আরোপ করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনে ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়। সরকার চাইলে এই ব্যয় ভর্তুকি হিসেবে বহন করতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানে ডিজিটাল লেনদেনে কোনো ফি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই ফি শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত।
আরও পড়ুন: এসএসসির ফল প্রকাশ কবে জানাল শিক্ষা বোর্ড
আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রণোদনার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেখান থেকে ডিজিটাল লেনদেনের ফি ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রবাসী আয় প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়। এর কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের ফি ভর্তুকিতে ব্যবহার করা হলে এ ধরনের লেনদেন আরও জনপ্রিয় হবে।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের ব্যবহার বেড়েছে। তাই ভর্তুকি ছাড়া ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করা সম্ভব হবে না।

