সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দাবি করার সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর মুনাফার দাবি বহাল থাকবে। আর মেয়াদপূর্তির পর অতিরিক্ত ছয় বছর পর্যন্ত সেই মুনাফা দাবি করা যাবে। এই ছয় বছরের সময়সীমা শেষ হলে সরকারের ওই মুনাফা পরিশোধের দায় তামাদি হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে। সার্কুলারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৮ জুন ২০২৬ তারিখের একটি ব্যাখ্যাপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ দেবে ৬৯ সহকারী পরিচালক, আবেদন ৩ আগস্ট পর্যন্ত
সার্কুলারে বলা হয়েছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রের মাসিক কুপন মুনাফা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির দিন পর্যন্ত বৈধ ও প্রাপ্য থাকবে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ছয় বছর অতিক্রান্ত হলে তবেই ওই মুনাফা দাবি করার সুযোগ শেষ হবে।
একই নিয়ম তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এসব সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মেয়াদপূর্তির দিন পর্যন্ত প্রাপ্য থাকবে এবং এরপর আরও ছয় বছর পর্যন্ত দাবি করা যাবে। ছয় বছর পার হয়ে গেলে সরকারের ওই মুনাফা পরিশোধের দায় তামাদি হিসেবে গণ্য হবে।
বছরভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই বিধান কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সরকারি ঋণ আইন, ২০২২-এর ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পাওনা অর্থের জন্য আলাদাভাবে কম সময় নির্ধারণ করা না থাকলে দাবির তারিখ থেকে ছয় বছর পর সরকারের দায় তামাদি হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিভিন্ন গ্রেডে ৪৯ পদে চাকরি, আবেদন ৩০ জুলাই পর্যন্ত
তবে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মুনাফার দাবি মেয়াদপূর্তির আগ পর্যন্ত বহাল থাকে। তাই এ ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাব মেয়াদপূর্তির দিন থেকে গণনা করা হবে এবং পরবর্তী ছয় বছর শেষে সরকারের দায় বিলুপ্ত হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাব নিয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা চাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়েছে।

