রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, প্রভাষ কুমার কর্মকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু হচ্ছে ১৮ আগস্ট
তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটি দুটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে অভিযুক্ত অধ্যাপকের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি প্রতিনিধি মনোনয়ন দেননি।
রেজিস্ট্রার আরও জানান, প্রভাষ কুমার কর্মকার বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উচ্চতর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তের শাস্তি অনুমোদন করেছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার। তার দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, “আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে আমার প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। একতরফাভাবে ষড়যন্ত্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পাইনি।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগটি তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত শুরু করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও একাধিক কমিটির সুপারিশের পর সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলো।

