সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বর্তমান ৩৫ বছর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ীভাবে ৪০ বছরে উন্নীত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ আন্দোলনের নেতারা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা জানান, আগামী ৫ জুলাই (রোববার) সকাল ১১টায় রাজধানীর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে যাবে। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা বলেন, করোনা মহামারি, দীর্ঘ সেশনজট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরপর তিনটি সরকারের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ফলে অনেকেই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুনঃ তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে আলিফ পরিবহনের তিন বাস আটক
তারা বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া বিএনপির ৩১ দফা ইশতেহারের ২৩তম দফায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, অতীতেও একাধিকবার আশ্বাস ও সুপারিশ পেলেও দাবিটি বাস্তবায়িত হয়নি। আন্দোলন করতে গিয়ে অনেককে মামলা-হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং কেউ কেউ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই এবার শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর সিদ্ধান্ত চান তারা।

