ভিডিও কলে শ্রেণিকক্ষ মনিটরিং করবে মাউশি

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

 শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন, তা সরাসরি ভিডিও কলে মনিটরিং করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন, তা সরাসরি ভিডিও কলে মনিটরিং করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)|ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবার নজরদারিতে আসছে রিয়েল-টাইম ভিডিও কলে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন, তা সরাসরি ভিডিও কলে মনিটরিং করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ‘ডিএমএস অ্যাপ’-এর মাধ্যমে মাউশির সহকারী পরিচালকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদান লাইভ পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরেই শুরু হচ্ছে শিক্ষকদের এআই ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ। ৩ লাখের বেশি শিক্ষকের আইসিটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এবং এনসিটিবি’র অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের খসড়া নিয়ে গুণগত মানে পরিবর্তনের পথে দেশের সেকেন্ডারি শিক্ষা খাত।

আরও পড়ুন: আজ শেষ হচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ১৫ দফা অনুশাসন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এসব কর্মপরিকল্পনারযেসব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, মন্ত্রণালয়ে তার বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে মাউশি।

অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। আইসিটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যেই ৩ লাখ ৫ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ ও ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পাশাপাশি এনসিটিবি’র সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল তদারকি জোরালো করতে প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএস-এ আপডেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাউশির সহকারী পরিচালকরা ‘ডিএমএস অ্যাপ’-এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি লাইভ ভিডিও কলে মনিটরিং করবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এছাড়া গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নতুন ক্যাটাগরিতে শিক্ষদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কার প্রদান এবং সংসদ টিভির প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিতেও মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি

এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা অনুশাসন মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অত্যন্ত দিকনির্দেশনামূলক। সম্প্রতি আমরা একটি বৈঠক করে প্রতিটি উইংকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কাজ ভাগ করে দিয়েছি। একই সঙ্গে চলমান কাজসহ একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ, অ্যাপভিত্তিক লাইভ মনিটরিং ও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে একটি পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৫ দফা অনুশাসন দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ৬ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি ‘রেকর্ড অব নোটস’ ও কার্যবিবরণী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-

১. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, চিত্রাঙ্কন ও গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

২. শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আচরণবিধি সংশোধন ও শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজ থেকে মুক্ত রাখা।

৩. শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সময়াবদ্ধ অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়ন করা।

৪. দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা যেন সেরা শিক্ষকদের ক্লাস গ্রহণের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে একটি ডেডিকেটেড ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

৫. প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনলাইনে তদারকি করা।

আরও পড়ুন: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার

৬. শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মানসম্মত ও কার্যকর প্রশিক্ষণের বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা।

৭. ডেডিকেটেড প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত ভবন শিক্ষক প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করা।

৮. গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ এবং শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান।

৯. ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কারের মাধ্যমে পাঠদান ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে উৎসাহিত করা।

১০. শ্রমবাজারের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য ও আগ্রহ অনুযায়ী কারিগরি, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো।

১১. শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নে কেন্দ্রীয় গবেষণা ডাটাবেজ গড়ে তোলা এবং স্থানীয় চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া। ১২. ক্লাসরুমে শিক্ষকরা যেনো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে পাঠদান আকর্ষণীয় করেন, তা নিশ্চিত করা।

১৩. শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ।

১৪. প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূল্যায়ন তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা, যাতে শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।

১৫. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী ভালো চর্চা ও সফল অভিজ্ঞতা সারাদেশে বিস্তৃতির লক্ষ্যে শিক্ষকদের ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা’ করতে হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!