খ্রিষ্টধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আশা করছি, এ বছরের ডিসেম্বর মাসে, অর্থাৎ বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে পারব। বইগুলো পরিমার্জিত এবং এর কারিকুলামে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৮ সালে আমরা নতুন কারিকুলাম ও নতুন সিলেবাস নিয়ে আসতে সক্ষম হব।”
তিনি জানান, মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ইতোমধ্যে পরিমার্জন করা হয়েছে এবং চারটি বিষয়ে নতুনভাবে বই প্রকাশ করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বই বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানালেন মন্ত্রী।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এসএসসি পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা নকলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসএসসি, এইচএসসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা
তিনি বলেন, “আমরা সেশনজট এবং বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার মধ্যকার গ্যাপ কমিয়ে আনতে কাজ করছি। আশা করছি, ২০২৮ সালের মধ্যে পরীক্ষার পরপরই কলেজে ভর্তি এবং কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। পুরো ব্যবস্থাকে আমরা সমন্বিত বা সিংক্রোনাইজ করছি।”
শিক্ষার্থীদের অযথা সময় নষ্ট এবং কোচিংনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন কারিকুলাম ও সিলেবাস তৈরি করছি, যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল শিক্ষায় উৎসাহিত হয় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।”
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

