ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশন, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেসকো) আয়োজিত মন্ত্রীদের উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপে অংশগ্রহণ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
সংলাপে মন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বিষয়ে তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বসেরা ৩০ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, আনন্দময় ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষণকে উৎসাহিত করা, এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে প্রতিটি শিশু শেখার, বেড়ে ওঠার এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষার অগ্রগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার উন্নয়নে প্রাথমিক উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
সেশনের পর শিক্ষামন্ত্রী মূল বক্তা নাইজেরিয়ার এডো অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর গডউইন ওবাসেকির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। ওবাসেকি এডো অঙ্গরাজ্যে বাস্তবায়িত ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ উদ্যোগের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ অঙ্গরাজ্যটিকে নাইজেরিয়ার অন্যতম সফল শিক্ষা অঙ্গরাজ্যে পরিণত করতে সহায়তা করেছে।
প্রসঙ্গত, আইসেসকো (ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অগ্রসর করতে কাজ করে।
আরও পড়ুন: শিক্ষা কারিকুলাম নতুনভাবে সাজানো সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী
এরপর মন্ত্রী হাউস অব লর্ডসে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন কর্তৃক মন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ–যুক্তরাজ্য শিক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই), মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, এডটেক সহযোগিতা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, উদ্ভাবনী হাব, তৃতীয় ভাষা প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের যোগ্যতা প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে, যাতে শিখন দক্ষতা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতায় রূপান্তরিত হয়। আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি হয় এবং অপব্যবহার রোধে টিএনই’র কার্যকর সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশের জাতীয় প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার গুরুত্বের ওপর একমত হয়।

