প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) থেকে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
আজ রবিবার জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় পছন্দক্রম ও মেধাক্রম অনুযায়ী এ, বি এবং সি ইউনিটে বিভাগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ভর্তি নিশ্চয়ন সম্পন্ন করতে হবে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার (৬ জুন) এ আদেশ জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম আজ রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২টা থেকে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত জিএসটির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাঁচ হাজার টাকা প্রাথমিক ভর্তি ফি জমাদানের রশিদসহ একটি এ৪ সাইজের খামে আবেদনকারীর নাম ও জিএসটি রোল নম্বর উল্লেখ করে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: সনদনির্ভরের বদলে দক্ষ ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এ, বি এবং সি ইউনিটের শিক্ষার্থীদের আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের (৩য় তলা) ৩১০ নম্বর কক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিট সমন্বয়কারীর স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত জমাদানের রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে মূল নম্বরপত্র ফেরত নেওয়ার সময় এই রশিদ প্রদর্শন করতে হবে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিভাগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান করছি। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে খুব দ্রুতই শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
আরও পড়ুন: ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা নি:সন্দেহে জেলার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় একসময় ছিল কেবল একটি স্বপ্নের নাম, সরকারি গেজেটের কয়েকটি পৃষ্ঠা এবং ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার প্রতীক। নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ কখনোই সহজ ছিল না। এমনও সময় এসেছে, যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা, শিক্ষানুরাগীদের দৃঢ়তা ও সংশ্লিষ্টদের অবিচল প্রচেষ্টার কাছে সেসব প্রতিবন্ধকতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ও ভবিষ্যতে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না। বরং এটি হবে জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে গড়ে উঠবে দক্ষ প্রশাসক, বিচক্ষণ আইনজ্ঞ, সফল উদ্যোক্তা, গবেষক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত নাগরিক।

