এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আসছেন: শিক্ষামন্ত্রী

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন|ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যেসব পরীক্ষক উত্তরপত্র ঠিকমতো মূল্যায়ন করেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল ১৬ সেপ্টেম্বর

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। আপনার শিক্ষকরা আমার সামনে বসে আছেন। এটা কি আপনাদের মনে প্রশ্ন আসে না? হঠাৎ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে গেল। প্রশ্নটা কী আসে? কেন?’

তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমি পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০-তে খাতা পুনঃপরীক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি না করতাম, এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হতো কি না? বঞ্চিত হতো। তাহলে এর প্রমাণ কী? আমাদের খাতা পরীক্ষণের মধ্যে সমস্যা রয়েছে বলেই তো এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম? এক্সামিনার ট্রেনিং প্রোগ্রাম আমাকে করাতেই হবে। যে পরীক্ষক খাতাগুলো ঠিকমতো দেখেননি, তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু নম্বর দিয়ে দিয়ে আমি চুপচাপ বসে থাকব, তা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আগের নিয়ম ছিল, ট্যাবুলেশন শিটের যোগফল ঠিক আছে কি না, সেটা দেখা হবে। কিন্তু খাতার ভেতরে পরীক্ষক ঠিকমতো দেখেছেন কি না, আন্ডারমার্কিং বা ওভারমার্কিং করেছেন কি না, তা দেখার সুযোগ ছিল না। এই সুযোগ দেওয়ায় অনেকে অপব্যবহারও করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমাকে অনেক বেশি খাতা দেখতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে ডিফল্ট পরীক্ষকদের মধ্যেই ছিল। আই মাস্ট গো ব্যাক অ্যান্ড ভেরিফাই থিং। আমি খাতাগুলো আলাদা রেখেছি।’

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কতদিন ছুটি, জেনে নিন বিস্তারিত

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিচিং প্রফেশনে আসলেও আমাদের শিক্ষকরা অনেক সময় হাল ছেড়ে যায়। এটা তাদের দোষ নয়। আমাদের প্রয়োজন তাদেরকে গাইড করা, মোটিভেট করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমাদেরকে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে। না আনলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষাবৃত্তি অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু হলো।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!