নিম্নমানের বই সরবরাহ করলে প্রিন্টার্সদের বই না নিতে শিক্ষকদের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

বইয়ের কাগজ, বাঁধাই ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনে ত্রুটি থাকলে প্রিন্টার্সদের কাছ থেকে সেই বই গ্রহণ না করতে শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম বই সরবরাহ করা হলেও তা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

আরও পড়ুন: বিইউপিতে প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ আইন বিভাগে, আবেদন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা বন্ধ হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাদরাসাপ্রধানদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো প্রিন্টার্স নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ করতে না পারে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, অতীতে প্রিন্টার্সদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মানের কাগজ ব্যবহার না করা এবং সময়মতো বই সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছিল। এবার এসব বিষয়ে প্রতিটি মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতন থাকতে হবে। প্রিন্টার্সদের ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এবার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দরপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে বই ছাপানোর কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রিন্টার্সরা যাতে কাজে অবহেলা করতে না পারেন, সে জন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান। তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। জিয়াউর রহমানও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস-এ মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে মাদরাসা শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় দাখিল ও আলিম পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু করা হয় এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবসায় শিক্ষা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পান, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদরাসাগুলোকে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!