অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সুষম পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর, সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সমন্বিত নির্দেশাবলী দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন সকল শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদক, কিশোর গ্যাং ও র্যাগ ডে বন্ধে মাউশির কঠোর নির্দেশনা
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খান স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সভার কার্যবিবরণী বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামাক কোম্পানি বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা এনজিওর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো প্রকার অনুদান, আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো উপহার বা আর্থিক সুবিধাও নিতে পারবেন না। মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সকল দপ্তর-সংস্থাকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) ও অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও পুষ্টি সচেতনতায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

