ঘুমের অভাব কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দরকার পর্যাপ্ত ঘুম
সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দরকার পর্যাপ্ত ঘুম|ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরেই স্বীকৃত। তবে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ৫০ বছরের কম বয়সীদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যান্সারের হার কেন বাড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, দূষণ ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক নিয়ে আগে থেকেই বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এখন ঘুমের অভাবও সম্ভাব্য একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুম ও নিম্নমানের ঘুম শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

আরও পড়ুন: যে পাঁচটি তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবক্সে ইনপুট দেবেন না

গবেষকদের মতে, ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু মেরামত, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এসব প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ঘুমের অভাব শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কয়েক ধরনের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার আগেই শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: তথ্য পাচার বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত কর্মজীবন, অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহার, মানসিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার প্রবণতা বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা ঘুমের ঘাটতির প্রভাবে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। এছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও ঘুম-সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা বেশি দেখা যায়।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, অনিদ্রা সরাসরি ক্যান্সারের কারণ—এমন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং গবেষণাটি ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন: বসার ঘরকেই বানিয়ে ফেলুন স্টেডিয়াম!

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমকেও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সমস্যার কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘুমের মান উন্নত করাও সম্ভব হতে পারে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!