চুয়েটে ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা বন্ধ

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়|ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা ছাড় না করার নির্দেশ দেন উপাচার্য।

চুয়েটের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এর মধ্যেই বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিউজকে বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে মেটা

চিঠিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো অননুমোদিত ও বেআইনি। চুয়েট আইন-২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক বেতন-ভাতা ছাড় করলে তাদেরও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য দায়ী করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম। তাঁর দাবি, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস ছাড় করতে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার শিটেও তাঁরা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। পরে উপাচার্যের চিঠির কারণে তা আটকে গেছে।

আরও পড়ুন: এআই চ্যাটবটকে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়

সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর করা বেতন-ভাতার শিট ব্যাংক গ্রহণ করেছিল। তবে উপাচার্যের চিঠির পর বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আইনি মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে চুয়েটে বেতন পরিশোধ করা হয়। এবার নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গাপূজার আগে বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মচারীরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে যান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ

টানা ১৬ দিনের আন্দোলনে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!