রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’, রাখা হয়েছে লাইফ সাপোর্টে

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

চেসি ত্রিপুরা
চেসি ত্রিপুরা|ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চেসির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এ তথ্য জানান ছাত্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা এখন আর আশাব্যঞ্জক কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি

তিনি আরও জানান, অলৌকিক কিছু না ঘটলে চেসির সুস্থ হয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। গত দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চেসির সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চেসির মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত লাগে।

এতে মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে ভেতরে চাপ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসকদের জানান, তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

রবিউল আরো জানান, ভেন্টিলেটরের সাহায্যে চেসির শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা হয়েছে।

এ সহায়তায় তার হৃদযন্ত্রসহ শরীরের অন্যান্য কার্যক্রম সচল রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাগমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন চেসি ত্রিপুরা। অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

চেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় লাইফ সাপোর্টে রেখে তার শারীরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!