বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশন (এইচইসি)। এ লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউজিসি কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে দেশের সব স্কুল-কলেজ, প্রতিটি ক্লাসরুমে বসবে সিসিটিভি ক্যামেরা
বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু, অন্তত একটি সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক এক্সচেঞ্জ, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের ‘নলেজ করিডোর’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
বৈঠকে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের নাম ও জন্মতারিখ সংশোধনে ঢাকা বোর্ডের জরুরি নোটিশ
তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন ও দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হলে দুই দেশের উচ্চশিক্ষা খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের ছয়টি অঞ্চলে এসব আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির পাশাপাশি আবাসন, খাবার ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।
ইমরান হায়দার আরও বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও শিক্ষা খাতকে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই লাভবান হবে।

