কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘খুব দ্রুতই খুলে দেওয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আমি আর আয়াতুল্লাহ—পরবর্তীতে যে আয়াতুল্লাহ হোন না কেন—এটি নিয়ন্ত্রণ করব।
সোমবার (২৩ মার্চ) সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ কথা বলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ দেখতে চান বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালি কবে নাগাদ আবার খুলে দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা দ্রুত এগোলে এটি খুব শিগগিরই খুলে যাবে।
এসময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, দেশটিতে খুবই গুরুতর ধরনের শাসনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ট্রাম্প জানান, মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গণ্য করেন না তিনি।
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়ে লিখেছেন, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধের বিষয়ে সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সব সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) নির্দেশ দিয়েছি। তবে এটি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপ চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্প মূলত জ্বালানির দাম কমাতে এই কৌশল নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো এবং তাঁর সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে যোগ করেছে, উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে কিছু ‘উদ্যোগ’ নেওয়া হয়েছে। তবে দেশগুলোর উচিত নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ তারাই ‘এই যুদ্ধের সূচনাকারী’।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালিটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। কখনো কখনো তা যুদ্ধের আগের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

