ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দিল্লির স্থানীয় প্রশাসন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আগামী ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় সপ্তাহের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রায় ৩ কোটি মানুষের এই মেগাসিটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর তালিকায় নিয়মিতই স্থান পায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিকর নির্গমন, ভারী যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের উড়ন্ত ধুলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ফসলের খড় বা অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শহরটির বাতাস তীব্র দূষণের কবলে পড়ে।
দিল্লি প্রশাসনের ঘোষিত শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণকাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত করতে এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে যানবাহন চলাচলের ওপরও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা বলেন, ‘শীতকালে যেন শহরের বাতাস কোনোভাবেই অতিমাত্রায় বিপজ্জনক কিংবা বিষাক্ত মাত্রায় পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য আগাম ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
সাধারণত শীতের মাসগুলোতে ঠান্ডা বাতাসের ভারী আস্তরণ ক্ষতিকর দূষিত উপাদানগুলোকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে। ফলে ওই সময় দিল্লিতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
২০২৪ সালে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল পরিবেশ ও বায়ুদূষণ।
শীতকালে শহরটির বাতাসে ক্যানসার সৃষ্টিকারী অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি অনেক সময় প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত দৈনিক সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি।
আরও পড়ুন: ১০০ কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন এআই: বিল গেটস
এর আগে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন কিছুটা সীমিত করা কিংবা কৃত্রিমভাবে বাতাসে পানি ছিটানোর মতো সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে দেশটির পরিবেশমন্ত্রী সিরসা বলেন, ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ ও দূষণ কমাতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজের সময়েও ভিন্নতা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নিরুৎসাহিত করতে ১ নভেম্বর থেকে পার্কিং ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হবে। সামগ্রিক উদ্যোগ নিয়ে আশা প্রকাশ করে সিরসা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পরিবেশ পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে এবং আগামী বছরগুলোতে শহরের বাতাসের মানে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে।

