মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে জটিল আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে মতবিরোধ থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, এরপর পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবি—ইরানকে অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের মজুত ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নৌ অবরোধ বজায় রাখার পক্ষেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান নতিস্বীকার করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে শতাধিক বাংলাদেশিসহ আন্দামানে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯
এদিকে, গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরানের সুস্পষ্ট সম্মতি না মেলায় ট্রাম্প তাঁর দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্বাস আরাগচি ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষে আজ মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তিতে সই করবে না, যা মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেয়।

