ইরানের নেতাদের ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ কারণেই তারা চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসা ছাড়া তেহরানের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে। তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।”
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার মন্তব্য, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা
ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যারা তাকে চাপ দিচ্ছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এ ধরনের বিষয়ে চুক্তি করতে অনেক সময় লাগে। বছরের পর বছরও লেগে যেতে পারে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। তার ভাষ্য, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন উৎপাদন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “তাদের কিছু সক্ষমতা এখনো আছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমার ধারণা, তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো অবশিষ্ট আছে। সংখ্যাটি কম নয়, তবে প্রথম হামলার সময় তাদের যে সক্ষমতা ছিল, তার তুলনায় এটি অনেক কম।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ আগামী সেপ্টেম্বরের শ্রম দিবসের পর দীর্ঘ সময় বহাল নাও থাকতে পারে।

