২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ নাভিনেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলা ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকে আইনি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আরও পড়ুন: ৩ বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য: দেশের ৮৬ বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ
দীর্ঘ কর্মজীবনে পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন।
রুয়ান্ডার গণহত্যাসংক্রান্ত মামলায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মামলায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি ঘটে। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেও তিনি অবদান রাখেন।
নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসন স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, সংঘাত ও ক্ষমতানির্ভর রাজনীতির কারণে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা চাপের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাভি পিল্লাইয়ের সাহস, নৈতিক দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নোবেল কমিটি মনে করে, শক্তির পরিবর্তে আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হলে বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সম্পূর্ণ অর্থায়নে ফেলোশিপ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের এলএসই, আবেদন করবেন যেভাবে
নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে মালালা ইউসুফজাই, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও মাদার তেরেসার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সম্মান পেয়েছেন। তাদের মতো নাভি পিল্লাইয়ের কাজও শান্তি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে।

