শুধু সিভি নয়, কাভার লেটার যেভাবে বদলে দিতে পারে চাকরির সুযোগ

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

কাভার লেটার
কাভার লেটার|ছবি: সংগৃহীত

সিভিতে সাধারণত প্রার্থীর কাজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে নির্দিষ্ট পদে কেন তিনি উপযুক্ত—তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে অনুপস্থিত থাকে। এই ঘাটতি পূরণ করে কাভার লেটার, যা প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা ও উপযুক্ততা সম্পর্কে নিয়োগকর্তাকে আরও স্পষ্ট ধারণা দেয়।

কাভার লেটার বলতে কী বোঝায়?

কাভার লেটার হলো এমন একটি চিঠি, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো পদের জন্য নিজেকে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে সিভির তথ্য হুবহু পুনরাবৃত্তি না করে বরং কেন আপনি ওই পদের জন্য যোগ্য এবং কীভাবে অন্যদের তুলনায় দায়িত্ব আরও দক্ষভাবে পালন করতে পারবেন—তা যুক্তিসহ তুলে ধরা জরুরি। সাধারণত নিয়োগকর্তারা কাভার লেটারের ভিত্তিতেই প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারে ডাকবেন কি না তা নির্ধারণ করেন। তাই চাকরির আবেদনের সময় সিভির সঙ্গে কাভার লেটার সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

কাভার লেটার কী কাজে আসে?

–একটি ভালো কাভার লেটার আপনাকে অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে রাখবে। অনেক ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব সিভির চেয়েও বেশি।

–একটি পদের দায়িত্ব নিয়ে আপনার কতটা জানাশোনা রয়েছে, তা একজন নিয়োগকারী আপনার কাভার লেটারের মাধ্যমে বুঝতে পারেন। তাই এর মান ভালো হলে আপনার সম্পর্কে নিয়োগকারীর ইতিবাচক মনোভাব থাকবে।

আরও পড়ুন: আইইএলটিএস ছাড়াই পাবেন যেসব স্কলারশিপ

–কাভার লেটারে আপনার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার পাশাপাশি কাজের আগ্রহের কারণ উল্লেখ করা থাকে। আপনার আগ্রহের কারণ যৌক্তিক হলে নিয়োগকারীর কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে।

কাভার লেটার লেখার নিয়ম

–কাভার লেটার ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। তাই ভালো কাভার লেটার লিখতে হলে ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা থাকা জরুরি।

–একটি কাভার লেটারে মূলত তিনটি অংশ থাকে: প্রথম অংশ (Introduction), মূল অংশ (Body) এবং শেষ অংশ (Closing)।

প্রথম অংশে তিনটি বিষয় উল্লেখ করুন:

–কোন পদের জন্য আবেদন করছেন।

–কীভাবে এ নিয়োগ সম্পর্কে জানলেন।

–আপনি কেন এ পদে কাজ করার জন্য আগ্রহী।

–মূল অংশ ১-৩ প্যারাগ্রাফে লিখতে পারেন। যে পদের জন্য আপনি আবেদন করছেন, তার সঙ্গে আপনার যোগ্যতা কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করুন। আপনার আগের কাজের অভিজ্ঞতাগুলো কীভাবে বর্তমান পদ ও প্রতিষ্ঠানের কাজে আসবে, তা পরিষ্কারভাবে লিখুন।

আরও পড়ুন: বিশ্বসেরা ৩০ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

–ইন্টারভিউয়ের জন্য আপনার আগ্রহের কথা জানান শেষ অংশে। কীভাবে আপনার সঙ্গে নিয়োগকারী যোগাযোগ করতে পারবেন, তাও উল্লেখ করুন।

–কাভার লেটারের শেষে স্বাক্ষর দিন।

–চেষ্টা করুন এক পৃষ্ঠার মধ্যে লেখা শেষ করতে।

–যার কাছে আবেদন করছেন, তার নামের উল্লেখ না থাকলে ‘Dear Sir/Mam’ সম্বোধন ব্যবহার না করা শ্রেয়। এর বদলে ‘Dear Concern/Hiring Official’ ব্যবহার করতে পারেন।

–সিভির লেখাগুলো পুনরাবৃত্তি করবেন না।

–নিয়োগকারীর মনোযোগ ধরে রাখতে পারে এমন শব্দ ব্যবহার করুন।

–ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

–অল্প কথায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো গুছিয়ে লিখুন।

–যে পদের জন্য আবেদন করছেন, তার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর দিকে নজর দিন।

–একই ধরনের বাক্য বারবার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। চেষ্টা করুন বাক্যগুলোর গঠনে পরিবর্তন আনতে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা

–বারবার পড়ুন ও ভুলগুলো খুঁজে বের করুন, বিশেষ করে বানানের বেলায় সতর্ক থাকুন।

–ইন্টারনেটে প্রচুর কাভার লেটার স্যাম্পল পাওয়া যায়। আপনি যেই পদে আবেদন করছেন তার স্যাম্পল লেটার পড়ে কিছু ধারণা পেতে পারেন। এতে আপনার লেখার সুবিধা হবে।

–গুগল ডকস এবং এমএস ওয়ার্ডের অনলাইন ভার্সনে কিছু টেমপ্লেট রয়েছে কাভার লেটার লেখার জন্য। আবার অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকেও টেমপ্লেট পছন্দ করতে পারেন। এমন কিছু ওয়েবসাইট হলো রেজ্যুমেজিনিয়াস ডটকম, হাডসন ডটকম , জবস্ক্যান ডটকম ইত্যাদি।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!