গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া অনুমোদন

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা|ছবি: সংগৃহীত

গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘দ্যা ট্র্যান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ঢাবির আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের ঘটনায় মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ আইনে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করে পরিবার পরিচালনার সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর গুমের সনদ প্রদানের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি পথও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগস্ট-সেপ্টেম্বর দুই মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

এদিকে, আইন ও বিচার বিভাগের উত্থাপিত ‘দ্যা ট্র্যান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের ফলে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি এখন নিজ জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণ করে সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। বিদ্যমান ১৮৮২ সালের আইনে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় সম্পত্তি দানের পর দাতার নিজ জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহারের স্পষ্ট আইনি সুরক্ষা ছিল না। বৈঠকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করায় এ বিষয়ে আদালতে রিট হলে বিষয়টি বিচারাধীন ছিল। ফলে নিয়ম অনুসরণ করে এগুলো বাতিল করা হলেও ১৯৯৪ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!