জেন জি’র কাছে ফোনকল কি সত্যিই আতঙ্কের?

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

জেন জিরা ফোনে কথা বলার চেয়ে বার্তা পাঠাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন
জেন জিরা ফোনে কথা বলার চেয়ে বার্তা পাঠাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন|ছবি: সংগৃহীত

ফোনটা বাজছে। স্ক্রিনে পরিচিত একটা নাম। একবার তাকিয়ে ফোনটা রেখে দিলেন। আবার বাজছে। এবারও ধরলেন না। মনে মনে ভাবলেন, ‘মেসেজ করলেই তো হতো!’

বিষয়টা অনেকের কাছেই অদ্ভুত লাগতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের কাছে। তাদের কাছে ফোন করা মানেই যোগাযোগের স্বাভাবিক ও সহজ উপায়। কিন্তু জেন জির অনেকের কাছে হঠাৎ ফোন আসা মানে হলো—এই মুহূর্তে সব কাজ থামিয়ে আপনাকে সময় দিতে হবে।

২০২৪ সালের ইউসুইচ জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফোনকল ধরেন না। আর ৭০ শতাংশ তরুণ ফোনে কথা বলার চেয়ে বার্তা পাঠাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তাহলে কি জেন জি ফোনে কথা বলতেই চান না? আসলে বিষয়টা এত সরল নয়।

আরও পড়ুন: টিকটিকি দেখলে ভয় লাগে, জানুন কারণ

ফোন মানেই এখনই সময় দিতে হবে

বার্তা এলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিলেও চলে। কাজটা শেষ করে, একটু ফাঁকা হয়ে তারপর উত্তর দেওয়া যায়। ফোনের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।

ফোন ধরলেই তখনই কথা বলতে হবে। আপনি হয়তো কাজে ডুবে আছেন, কোনও কিছুতে মনোযোগ দিচ্ছেন কিংবা স্রেফ একটু নিজের মতো থাকতে চাইছেন—হঠাৎ ফোন এসে সবকিছু থামিয়ে দিতে পারে।

জেন জির অনেকের কাছে তাই ফোনকল শুধু কথা বলা নয়, তাৎক্ষণিক মনোযোগ দেওয়ার দাবি।

ফোনে কথা বলার জন্যও প্রস্তুতি লাগে

ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গে কথা শুরু। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন—সবকিছু তখনই সামলাতে হবে। কথার মাঝখানে থেমে ভেবে নেওয়া বা নিজের কথাটা একটু গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও কম।

বার্তার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। লিখলেন, আবার পড়লেন। ভালো না লাগলে মুছে নতুন করে লিখলেন। প্রয়োজন হলে একটু সময় নিয়ে উত্তর দিলেন।

তার ওপর ফোনে কথা বললে সেই চেনা ছোটখাটো কথাবার্তাও আসে—‘কী খবর?’, ‘কী করছ?’, ‘সব কেমন চলছে?’ এরপর ফোন রাখার সময়ও আরেক ঝামেলা। ‘আচ্ছা, রাখি’ বলার পরও কথা চলতেই থাকে।

এসব খুব বড় সমস্যা নয়। কিন্তু কারও কারও কাছে এগুলো মিলেই ফোনে কথা বলাকে ক্লান্তিকর করে তোলে।

আরও পড়ুন: আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, এত ব্যথা কেন হয়?

নিজের যত্ন নেওয়া

ছোট কথাও বড় হয়ে যায়

ফোনের আরেকটা সমস্যা হলো, ফোন সাধারণত যে কারণে করা হয়, কথা সেখানেই থেমে থাকে না।

ধরুন, কেউ ফোন করে শুধু জানতে চাইল—রবিবার কখন খেতে যাবেন। উত্তর দিতে ১৫ সেকেন্ডই যথেষ্ট। কিন্তু তারপর শুরু হলো আবহাওয়া, কাজ, পরিবার, পুরোনো গল্প—দেখতে দেখতে ২০ মিনিট চলে গেল।

আড্ডা খারাপ নয়। কিন্তু যিনি শুধু একটা তথ্য জানতে চেয়েছিলেন, তার কাছে একটা বার্তাই হয়তো যথেষ্ট।

আর বার্তার একটা সুবিধা হলো—কী কথা হয়েছে, সেটা পরে আবার দেখে নেওয়া যায়। ছোটখাটো প্রশ্নের উত্তর দিতে তাই পুরো একটা ফোনালাপের প্রয়োজন পড়ে না।

হঠাৎ ফোন এলেই ভয় লাগে কেন?

জেন জির দৈনন্দিন যোগাযোগের বড় অংশই বার্তাভিত্তিক। তাই হঠাৎ ফোন বেজে উঠলে অনেকের মাথায় প্রথমেই আসে—‘কী হয়েছে?’

জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি তরুণ অপ্রত্যাশিত ফোনকলকে খারাপ খবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। ফলে স্রেফ ‘হাই’ বলার জন্য করা ফোনও কারও কারও কাছে অযথা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে সমাধান কী?

ফোন একেবারে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। আবার ফোন বাজলেই সব কাজ ফেলে ধরতে হবে—এমনও নয়। বরং কথার ধরন অনুযায়ী মাধ্যম বেছে নেওয়া যায়।

হঠাৎ ফোন করার আগে একটা ছোট বার্তা পাঠানো যায়—‘এখন কথা বলার সময় আছে?’ এতে যাকে ফোন করা হচ্ছে, তিনিও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: একই ঘরে থেকেও কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড় দেয়, কিন্তু কেন?

জরুরি কিছু না হলে বারবার ফোন না করাও ভালো। এতে হঠাৎ ফোন এলে সেটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কি না, বোঝা সহজ হয়।

শেষ পর্যন্ত জেন জি আর বয়স্ক প্রজন্ম—দুই পক্ষই আসলে একই জিনিস চান: গুরুত্ব পাওয়া।

শুধু সেই গুরুত্ব দেখানোর ধরনটা আলাদা।

বয়স্কদের কাছে ফোন ধরে কথা বলা হয়তো যত্নের প্রকাশ। জেন জির কাছে কারও সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করাটাই যত্ন।

তাই কেউ ফোন ধরল না মানেই সে আপনাকে অবহেলা করছে—এমন নয়। আবার প্রিয় কেউ ফোন করলে বারবার এড়িয়ে যাওয়াও যে সম্পর্কের জন্য ভালো, তা নয়।

হয়তো সমাধানটা খুব সহজ—ফোনটা যখন পারবেন, ধরুন। না পারলে পরে ফোন করে নিন। আর দুপক্ষই অন্যজনের আচরণকে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে না দেখে একটু বোঝার চেষ্টা করুন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!