নিখুঁত হওয়ার অতিরিক্ত চেষ্টা যেভাবে মানসিক চাপ বাড়ায়

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক
নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক|ছবি: জিটি ফটো/এআই

ভালো কাজ করার চেষ্টা বা নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু যখন সবকিছুতেই নিখুঁত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আপনার চিন্তা ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন সেটি ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের এই সম্পর্ক বোঝা এবং এর ক্ষতিকর চক্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় জানা জরুরি।

নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা সাধারণত তীব্র উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ, এ ধরনের মানুষ নিজেদের জন্য অত্যন্ত উচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করেন এবং যেকোনো মূল্যে ভুল এড়িয়ে চলতে চান। তারা নিজের কাজের মান নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন, সমালোচনার ভয় পান এবং প্রায়ই মনে করেন, নিখুঁতের চেয়ে কম কিছু মানেই ব্যর্থতা। নিজের ওপর আরোপ করা এই অবিরাম চাপ মনকে সব সময় অস্থির রাখে, যার ফলে উদ্বেগ, আত্মসন্দেহ এবং মানসিক অস্বস্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন: ফেসবুকে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার কার্যকরী টিপস!

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয় এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ বা দৈনন্দিন কাজও কঠিন ও চাপপূর্ণ বলে মনে হয়। অনেকেই একটি কাজ বারবার পরীক্ষা করেন, সংশোধন করেন কিংবা অতিরিক্ত বিশ্লেষণে সময় ব্যয় করেন। এতে উদ্বেগ যেমন বাড়ে, তেমনি মানসিক ক্লান্তিও গভীর হয়।

নিখুঁত হওয়ার প্রবণতার আরেকটি বড় সমস্যা হলো, এ ধরনের মানুষ নিজেদের সাফল্যের চেয়ে ভুল বা অপূর্ণতার দিকেই বেশি নজর দেন। অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার বদলে তারা নিজেকে অবাস্তব মানদণ্ডের সঙ্গে বা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করতে থাকেন। এর ফলে জন্ম নেয় অপূর্ণতা, হতাশা এবং আত্মঅসন্তুষ্টির অনুভূতি। এভাবে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হয়—উদ্বেগ নিখুঁত হওয়ার চাপ বাড়ায়, আর নিখুঁত হওয়ার চাপ উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তোলে।

আরও পড়ুন: ইউটিউব থেকে ঘরে বসে আয় করবেন যে কৌশলে

এ ছাড়া অনেকেই অনিশ্চয়তা মেনে নিতে পারেন না। কোনো পরিস্থিতির ফলাফল নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এমনকি ব্যর্থতার ভয় এতটাই প্রবল হয়ে উঠতে পারে যে নতুন কিছু শেখা, ঝুঁকি নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ শুরু করতেও তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে সেই চেষ্টা যখন মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কর্মজীবন বা দৈনন্দিন জীবনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন তা আর স্বাস্থ্যকর থাকে না।

আরও পড়ুন: তথ্য পাচার বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড

এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, ভুল করা শেখা ও বিকাশের স্বাভাবিক অংশ। নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দিলে উদ্বেগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং নমনীয় চিন্তাভাবনা গড়ে তোলাও নিখুঁত হওয়ার অতিরিক্ত প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!