ফল ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল রাখেন। কেউ সকালের নাশতায় ফল খান, কেউ আবার দুপুর বা রাতের খাবারের পর। তবে একটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
খাবারের আগে নাকি পরে?
বৈজ্ঞানিকভাবে ফল খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘সেরা সময়’ নেই। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের আগে, খাবারের সঙ্গে কিংবা পরে ফল খেলেও এর পুষ্টিগুণে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হয় না। কারণ শরীর দিনের বিভিন্ন সময় ফলের ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা হজম এবং শোষণ করতে সক্ষম।
ফলে থাকা ফাইবার ও পানির কারণে খাবারের আগে বা হালকা নাশতা হিসেবে ফল খেলে অনেকের পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। আবার খাবারের পর ফল খেলেও সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি
তবে যাদের পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা হজমজনিত অস্বস্তি রয়েছে, তাদের জন্য ফল খাওয়ার সময় ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে খালি পেটেই ফল খেতে হবে—এই ধরনের কঠোর নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। বরং বিভিন্ন সময়ে ফল খেয়ে দেখে কোন সময় শরীরের জন্য বেশি আরামদায়ক, তা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়মিত কতটা এবং কী ধরনের ফল খাওয়া হচ্ছে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মৌসুমি ফল রাখা ভালো। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়াই বেশি উপকারী। কারণ আস্ত ফলে ফাইবার বেশি থাকে এবং এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সাধারণত ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে তাদের ফলের পরিমাণ এবং মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
ফল খাওয়ার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ও পেট ভরা থাকার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে ২০২৩ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সকালের নাশতার ৯০ মিনিট আগে, ৩০ মিনিট আগে, নাশতার সঙ্গে এবং নাশতার ৩০ মিনিট পরে কিউই ফল খেতে দেওয়া হয়।
গবেষকরা দেখতে পান, সিরিয়ালের একটি অংশের পরিবর্তে ফল খেলে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষুধা না বাড়িয়ে রক্তে শর্করার সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
তবে ফল খাওয়ার সময়ের ক্ষেত্রেও কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যায়, যখন অংশগ্রহণকারীরা প্রধান খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ফল খেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি
শুধু সিরিয়াল খাওয়ার তুলনায় খাবারের আধা ঘণ্টা আগে ফল খেলে রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
অন্যদিকে সিরিয়ালের সঙ্গে একই সময়ে বা খাবারের ৩০ মিনিট পরে ফল খেলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি ততটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
গবেষকদের মতে, খাবারের কিছুক্ষণ আগে ফল খেলে এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ও ফাইবার পরবর্তী ভারী কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবারের হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সময় পায়। ফলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি কম হতে পারে।
তবে ফল যদি অনেক আগে, যেমন ৯০ মিনিট আগে খাওয়া হয়, তাহলে শরীর ফল ও পরবর্তী খাবারকে আলাদাভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এতে ওই অতিরিক্ত সুবিধা কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে চাইলে এই গবেষণার ফল অনুযায়ী প্রধান খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ফল খাওয়া উপকারী হতে পারে। আর সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া।

