গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে এক বিএনপি নেতার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জের হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হকের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি চারটি মাইক্রোবাস, একটি বাস ও দুটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকায় মিছিলের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, তিনি গোপালগঞ্জ থেকে রাতইলে ফেরার পথে বিক্ষোভকারীরা তাকে ধাওয়া করে এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: সংসদ ভবনের সামনে থেকে লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিল পুলিশ
একই অভিযোগ করেন রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নান্নান খাকি। তিনি বলেন, মহাসড়কে পৌঁছানোর পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ করতে দেখেন এবং এ সময় তার সঙ্গে থাকা সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হকের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান। তিনি জানান, আটক ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

