যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলার প্রোগ্রামে’ ২০২৬-২৭ সেশনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা পূর্ণ অর্থায়নে এক শিক্ষাবর্ষ মেয়াদে গবেষণা ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার জন্য অনুদান পাবেন। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশি সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কর্মরত গবেষকেরা এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহীদের আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত
এই ফেলোশিপের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রি (পিএইচডি) বা সমমানের পেশাগত ডিগ্রি থাকতে হবে। আবেদনকারীদের নিজ নিজ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গবেষণা পরিচালনা ও শিক্ষকতার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করতে হবে। এই অনুদান মূলত ১০ বছর বা তার বেশি সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গবেষক ও শিক্ষকদের দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগতভাবে কাজ করার জন্য প্রার্থীদের ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয় ও কার্যক্রম
এই প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষা–সম্পর্কিত সব শাখার বিস্তৃত বিষয়ে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দূরশিক্ষণ, শিক্ষাপ্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য, জীববিজ্ঞান, ফার্মেসি, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, আরবান প্ল্যানিং ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর বাইরেও শিক্ষকদের জন্য কিছু স্বল্পমেয়াদি অনুদান প্রদান করা হবে। সব শাখায় প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম উন্নয়ন–সম্পর্কিত চাহিদা নিরূপণ ও গবেষণা পরিচালনা, মাধ্যমিক–পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উন্নয়ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক বা প্রশিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং একাডেমিক পাঠ্যক্রম বা শিক্ষা উপকরণ প্রণয়ন ও মূল্যায়নে আগ্রহী শিক্ষকেরা এই স্বল্পমেয়াদি অনুদানের সুযোগ পাবেন।
এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সময়কাল ও লক্ষ্য
আগামী বছরের (২০২৭) সেপ্টেম্বর মাসে এই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি শুরু হবে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলারের মূল উদ্দেশ্য হলো গভীরভাবে অনুপ্রাণিত শিক্ষকদের উচ্চতর গবেষণা ও শিক্ষাদানের জন্য অনুদান প্রদান করা, যা দুই দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করবে।
ফুলব্রাইটের সুযোগ-সুবিধাসমূহ
এই ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীরা আকর্ষণীয় সব প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা পাবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিবরণ অনুযায়ী, 'ফুলব্রাইটে সুবিধার মধ্যে রয়েছে ফিরতি বিমানসহ যাতায়াত ভাড়া, শিক্ষাদান ও সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ফি, কক্ষ, আবাস ও আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহে মাসিক বৃত্তি, বইপত্র ক্রয়ের ভাতা, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা, ভ্রমণভাতা ও অতিরিক্ত মালপত্রের ভাতা।'
সাবেক শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও ইতিহাস
বিগত ৫২ বছরে বাংলাদেশের দুই শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই মর্যাদাপূর্ণ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলারের সাবেক শিক্ষার্থীদের তালিকায় আছেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, গবেষক, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন পেশাজীবীরা। এই প্রোগ্রামের অন্যতম বিশিষ্ট বাংলাদেশি সাবেক শিক্ষার্থী হলেন নোবেলজয়ী এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের ঠিকানা
আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট অনলাইন আবেদন ফরম লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রার্থীকে প্রথমে একটি লগইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অনলাইন আবেদনের বিস্তারিত পদ্ধতি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশাবলি ওয়েবসাইটের লিংকে পাওয়া যাবে। এছাড়া এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন হলে আগ্রহীরা dhakausexchanges@state.gov এই ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।

