যুক্তরাজ্যে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ দিচ্ছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন (সিএসসি)। এ স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, যাতায়াতের বিমানভাড়া, মাসিক জীবনযাত্রার খরচ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ব্যয় বহন করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীরা সন্তান ও পরিবারের জন্য ভাতাসহ অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও পেতে পারেন। বাংলাদেশসহ নির্ধারিত কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকেরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা নেই। তবে আবেদনের শেষ তারিখ সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন এ বৃত্তি পরিচালনা করে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, উদ্ভাবন, শান্তি ও নিরাপত্তা, সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয় এ বৃত্তিতে।
সুযোগ-সুবিধা
*সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করা হবে;
*যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের বিমানভাড়া দেওয়া হবে;
*জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড দেওয়া হবে;
*লন্ডন মহানগর এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ২ হাজার পাউন্ড জীবনযাত্রার ভাতা পাবেন;
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে মাস্টার্স-পিএইচডিতে স্কলারশিপ, বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ
*প্রয়োজন অনুযায়ী শীতের পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে;
*পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট ভ্রমণের জন্য যুক্তরাজ্যের ভেতরে বা বিদেশে যাতায়াতের অনুদান দেওয়া হবে;
*বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন বা একক অভিভাবক শিক্ষার্থীরা সন্তান ভাতা পেতে পারেন;
*পিএইচডি শিক্ষার্থীদের বিদেশে গবেষণার মাঠপর্যায়ের কাজের জন্য যাওয়া-আসার বিমানভাড়া দেওয়া হবে;
*নীতিমালা অনুযায়ী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মধ্যবর্তী সময়ে নিজ দেশে ভ্রমণের বিমানভাড়া এবং পরিবারসংক্রান্ত ভাতা দেওয়া হতে পারে;
*প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
*আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্ধারিত কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিক হতে হবে। শরণার্থী মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্রিটিশ প্রটেক্টেড পারসনরাও আবেদন করতে পারবেন;
*আবেদনকারীকে যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে;
*২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে;
*স্নাতক পর্যায়ে অন্তত আপার সেকেন্ড-ক্লাস অনার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে;
*যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার ব্যয় নিজ উদ্যোগে বহন করতে অক্ষম হতে হবে;
*নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দিতে হবে;
*আগে স্নাতক শেষ করেছেন এবং দ্বিতীয় মাস্টার্সের ব্যয় বহনে অক্ষম—এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয় মাস্টার্সে আবেদনকারীদের এ ডিগ্রি করার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে;
*যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন, তারা মাস্টার্স বৃত্তির জন্য যোগ্য নন;
*পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। যুক্তরাজ্যে থাকার জন্য গ্র্যাজুয়েট বা অন্য কোনো ভিসায় পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
পিএইচডি স্কলারশিপের অতিরিক্ত যোগ্যতা
*আবেদনকারী যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা নিজ দেশে পিএইচডি কিংবা পিএইচডিতে উত্তরণের সুযোগ রয়েছে—এমন এমফিল প্রোগ্রামে আগে থেকেই নিবন্ধিত থাকতে পারবেন না। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর ২০২৬-এর আগে এ ধরনের নিবন্ধন থাকা যাবে না;
আরও পড়ুন: কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যে ১০ স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
*সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে;
*গবেষণার ক্ষেত্রে শক্তিশালী সম্ভাবনা ও সক্ষমতা থাকতে হবে;
*পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।
আবেদনপ্রক্রিয়া
আগ্রহী প্রার্থীদের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শর্ত যাচাই করতে হবে।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন আইইএলটিএসকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করে না। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংরেজি ভাষার দক্ষতাসংক্রান্ত শর্ত আরোপ করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬

