বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দেকে ৩–২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার পক্ষে হলেও ম্যাচজুড়ে লড়াই, সাহস আর দৃঢ়তায় সমর্থকদের মন জিতে নিয়েছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকার দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ১–১ সমতায় আটকে রেখে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নেওয়া কেপ ভার্দে শেষ পর্যন্ত হেরেও রেখে গেছে দুর্দান্ত এক স্মৃতি।
মায়ামিতে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের উদ্দেশ্যে প্রথম শট নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। এরপর দীর্ঘ সময় কেপ ভার্দে নিজেদের গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের ২৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দারুণ লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্বিতীয় স্পর্শেই কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে জালে পাঠান তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
গোল হজমের পর ভেঙে না পড়ে আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এনসো ফার্নান্দেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেলেও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে একেবারেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণে সাহসী হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। ৫৪ মিনিটে দেরয় দুয়ার্তের জোরালো শট এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঠেকিয়ে দিলেও পাঁচ মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান দুয়ার্তে। ১–১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
সমতায় ফেরার পর কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনি একে একে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। মেসিও একাধিক সুযোগ তৈরি করেন। ৬২ মিনিটে তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ভোজিনিয়া। ৭২ মিনিটে মেসির দারুণ ফ্রি-কিকও কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। শেষ দিকে মেসির আরও একটি ফ্রি-কিক এবং পারেদেসের দূরপাল্লার শটও প্রতিহত করেন তিনি।
৯০ মিনিটে ১–১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফ্লিক পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
তবে কেপ ভার্দে আবারও প্রমাণ করে তারা সহজে হার মানার দল নয়। ১০৩তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে বল জালের দূরের ওপরের কোণে পাঠান সিডনি কাবরাল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কিছুই করার ছিল না। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার এই গোল আবারও সমতায় ফেরায় ম্যাচকে।
ম্যাচ তখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু ১১১তম মিনিটে ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নেয় কেপ ভার্দের। মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
তবুও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় কেপ ভার্দে। ১১৬তম মিনিটে কাবরালের দারুণ ফ্রি-কিক আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ১১৯তম মিনিটে গিলসন বেঞ্চিমোলের নিশ্চিত গোলের সুযোগও অসাধারণ দক্ষতায় নষ্ট করে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দেওয়া আফ্রিকার নবাগত দলটি এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও নির্ধারিত সময়ে হারাতে দেয়নি। বিদায় নিলেও সাহসী ও লড়াকু পারফরম্যান্সে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়ে গেল কেপ ভার্দে।
এদিকে এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আগামী ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মিসর।

