আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম: বাবার পথ ধরে বিশ্বকাপ খেলবেন দুই তারকা সন্তান

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 সিমিওনে ও নিকো পাস
সিমিওনে ও নিকো পাস|ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই বিশ্বকাপে বাবার পথ অনুসরণ করে খেলতে যাচ্ছেন দুই ফুটবলারের সন্তান। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন নিকো পাস ও গিলিয়ানো সিমিওনে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম হলো।

বিশ্বকাপজয়ী ১৭ ফুটবলারকে রেখেই দল ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় ঘোষিত দলে অধিনায়ক হিসেবে আছেন লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। তবে দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নিকো পাস ও গিলিয়ানো সিমিওনের নাম।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বোর্দোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন পাবলো পাস ও দিয়েগো সিমিওনে। সেদিন হয়তো কেউ ভাবেননি, প্রায় তিন দশক পর তাঁদের ছেলেরাও একইসঙ্গে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেবেন।

আটাশ বছর পর সেই ইতিহাসই নতুনভাবে ফিরে এলো। নিকো পাস ও গিলিয়ানো সিমিওনে এবার একসঙ্গে স্কালোনির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে বাবা ও ছেলে জাতীয় দলে খেলেছেন— এমন ঘটনা আগে ঘটেছে। তবে একই বিশ্বকাপে বাবার পর ছেলের প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনা এবারই প্রথম।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপজয়ী ১৭ জনকে রেখে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী দল ঘোষণা

নিকো পাসের জন্ম স্পেনের সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফেতে। তাঁর বাবা পাবলো পাস তখন ক্লাব ফুটবল খেলতে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বাহিয়া ব্লাঙ্কা থেকে উঠে আসা পাবলো খেলেছেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ও ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তের মতো ক্লাবে। পরে তেনেরিফেতে থিতু হন। সেই শহরেই জন্ম নেন নিকো পাস। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের যুব পর্যায় পেরিয়ে ইতালির কোমোতে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

গিলিয়ানো সিমিওনের গল্পও অনেকটা একই রকম। তাঁর জন্ম ইতালির রোমে, যখন বাবা দিয়েগো সিমিওনে লাৎসিওর হয়ে খেলছিলেন। পরে দিয়েগো সিমিওনে আতলেতিকো মাদ্রিদের কিংবদন্তি কোচে পরিণত হন। আর ছেলে গিলিয়ানোও এখন সেই একই ক্লাবের উইঙ্গার। গতি, আগ্রাসন আর লড়াকু মানসিকতায় বাবার ছায়াই যেন দেখা যায় তাঁর খেলায়।

পাবলো পাসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি। মাত্র ১৪টি ম্যাচ খেলেই শেষ হয়েছিল তাঁর আর্জেন্টিনা অধ্যায়, যার শেষ মঞ্চ ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে দিয়েগো সিমিওনে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার কীর্তিও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ছেলেকে দেখার স্বপ্ন দুই পরিবারেই এতদিন অপূর্ণ ছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলো।

বিদেশে বেড়ে ওঠা আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত প্রতিভাদের খুঁজে বের করতে ২০১৭ সালে বিশেষ স্কাউটিং নেটওয়ার্ক চালু করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। যুব দলের সমন্বয়কারী এনরিকে সেসানা একবার এই উদ্যোগ নিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ছেলেরা স্প্যানিশ বা ইতালিয়ান টানে কথা বলতে বলতে ক্যাম্পে আসে, কিন্তু চলে যাওয়ার সময় হয়ে যায় খাঁটি আর্জেন্টাইন।’

এই প্রসঙ্গে উঠে আসে লিওনেল মেসির নামও। ছোটবেলায় বার্সেলোনায় চলে যাওয়া মেসিকে সময়মতো আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্ত রাখতে না পারলে হয়তো স্পেনের জার্সিতেই দেখা যেত তাঁকে।

এই গল্পে আরেকটি মজার যোগসূত্রও আছে। ১৯৯৮ সালে এক প্রস্তুতি ম্যাচে পাবলো পাসের সতীর্থ ছিলেন রবার্তো আয়ালা। বর্তমানে তিনিই স্কালোনির কোচিং স্টাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখন তাঁর হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে নিকো পাস ও গিলিয়ানো সিমিওনেদের নতুন প্রজন্ম।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!